25 February- 2021, 10:38 pm ।। ১৩ই ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চলে যাওয়া মানে, প্রস্থান নয়। সৈয়দ আশরাফ বেচেঁ থাকবেন মানুষের মাঝে তাঁর সুকীর্তির জন্য

স্বপন কুমার ঢালী♦

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গুলশানের বাড়ি বিক্রি করেছেন স্ত্রীর চিকিৎসার জন্যে। সরকারি বরাদ্দের প্লট নেননি, নেননি শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধাও।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, তিন মেয়াদে মন্ত্রী থাকার পরেও সম্পদ ক্রমাগত কমেছে তার। মৃত্যুকালে পৈতৃক বাড়িটি ছাড়া আর কোন বাড়ি, ফ্ল্যাট কিছুই ছিল না।

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গুলশানের বাড়ি বিক্রি করেছেন স্ত্রীর চিকিৎসার জন্যে। স্ত্রীকে লন্ডন থেকে জার্মানীতে চিকিৎসার জন্য টাকা যোগাড় করতে গিয়ে বিমানের টিকেট পিছাতে হয়েছিল দুইবার। সরকারি বরাদ্দের প্লট নেননি, নেননি শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধাও।

তিনিই সৈয়দ আশরাফ। মহান নেতা, বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় চার নেতার একজন সৈয়দ নজরুল ইসলামের সন্তান। সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা। রাষ্ট্রপতির ছেলে হয়েও রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধকালীন রাষ্ট্রপতির ছেলে হয়েও শুকনো রুটি খেয়েছেন, স্টেনগান হাতে মাটিতে বুকে ভর দিয়ে যুদ্ধ করেছেন।

ইন্ডিয়ার জেনারেল উবান স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে তার বইয়ে যে সাদামাটা, শান্ত আর বুদ্ধিদীপ্ত তরুণ যোদ্ধা আশরাফের কথা বলেছিলেন, তিনিই এই সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

সেই সৈয়দ আশরাফ ৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বিলাতে চলে গিয়েছিলেন। সেখানে লেবার পার্টির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। সৈয়দ আশরাফ বাংলাদেশের সংসদ সদস্য ছিলেন। অথচ হওয়ার কথা ছিল ব্রিটেনের লেবার পার্টির এমপি। ১৯৯৬ সালে উনাকে দেশে ফিরিয়ে আনেন শেখ হাসিনা। তারপর একাধারে ২২ বছর পার্লামেন্টারিয়ান।

শেখ হাসিনার নির্দেশে এমন এক এলাকায় নৌকার জয় ফিরিয়ে এনেছিলেন যার রানিং এমপি ছিল আলবদর তাত্ত্বিক আতাউর রহমান খান। যে খালেদা জিয়াকেও পরোয়া করতো না। তারপর, সৈয়দ আশরাফ ৯৬- এ বিমান প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন ওয়ান ইলেভেনের পর। শেখ রেহানার স্বামী ডক্টর শফিক সিদ্দিকী তার এক লেখায় বলেছিলেন- কিভাবে বিপর্যস্ত জিল্লুর রহমান শেখ রেহানাকে দিয়ে অনুরোধ করিয়েছিলেন সৈয়দ আশরাফকে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হতে অনুরোধ করেছিলেন। সেই দিন, এই দুইজনের জন্য বেঁচে গিয়েছিল আওয়ামী লীগ।

বই পড়তে ভীষণ ভালবাসতেন, প্রযুক্তিপ্রেমী আর কর্মী বান্ধব লোক ছিলেন উনি। দলের সাধারণ সম্পাদক থাকার সময়ে। কাজ ভাগ করে দিয়েছিলেন, ৩ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের হাতে। স্পষ্ট করে বলে দিয়েছিলেন ক্যামেরাবাজির বাইরেও সেক্রেটারির কাজ থাকে।

সততার প্রতীক সৈয়দ আশরাফ। জাগতিক সম্পদের মোহ তাকে ছুঁতে পারেনি। ব্যক্তিগত জীবনে উদাসীন, দলের জন্য অন্তঃপ্রাণ এই মানুষটাকে নিয়ে দল-মত ভুলে গিয়ে ভেবে দেখুন, কী হারালাম!

শত বছরে এমন রাজনীতিবিদ কালেভদ্রেই আসেন এই ভূখন্ডে!

Sharing. . . .




More News Of This Category


সংবাদ শিরোনামঃ
  Icone বেতাগীতে ফাইলেরিয়া রোগের উপর প্রশিক্ষণ  Icone বেতাগীতে সন্ত্রাস-মাদকবিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ  Icone বেতাগী খাদ্যের নিরাপদতা শীর্ষক সেমিনার  Icone বেতাগীতে মুজিববর্ষে ১২ জন গৃহহীন পেলেন শেখ হাসিনার উপহার ঘর  Icone বেতাগীতে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত  Icone বেতাগী নাজেম আলী স্মৃতি ফাউন্ডেশনে পৌরসভার নয়া মেয়র ও কাউন্সিলরদের সংবধর্না  Icone বাংলাদেশ কমার্শিয়াল প্রকিউরমেন্ট ও সাপ্লাই-চেইন প্রফেশনালসে বার্ষিক ফ্যামিলি পিকনিক  Icone বেতাগীতে কৃষক মাঠ দিবস উদযাপন ও উন্নত জাতের বীজ বিতরণ  Icone বেতাগীতে কিশোরীদের স্যানিটারি প্যাড বিতরণ ও উদ্বুদ্ধকরণ সভা  Icone বেতাগীতে সড়ক ও বসতবাড়ি আঙিনায় বৃক্ষ সংরক্ষণ ক্যাম্পেইন